Physical Address
Dogormura, Savar, Dhaka, Bangladesh
Physical Address
Dogormura, Savar, Dhaka, Bangladesh

স্টাফ রিপোর্টার:
সাভারের বেড়াইদ এলাকায় আলী জান (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আলী জানের জামাতা মোঃ হাবিব বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, বাবুল মিয়া (৫০), আলিফ (৪০), তসলিম (৫৫), ইয়াছিন (৪৮), লাল চান (৪৫), জাবেদ (৩৮), ফারুক (৪৮), মোস্তফা (৫৬), আজিজ (৬০), শামীম (৫৫), সাইফুল (৪০) ও সোহাগ (৪০)।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮ টার দিকে বেড়াইদ পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় আলী জানকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরে মারধর করেন। পরে তাকে একটি অফিসে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় রামদা, চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে আলী জানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন। এতে তার বাম বাহুতে গুরুতর কাটা জখম হয়। এছাড়া চাপাতি দিয়ে বাম পায়ের নলিতে এবং লোহার রড দিয়ে ডান পায়ের নলিতে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার পা গুরুতরভাবে জখম হয়। একই সঙ্গে তার বাম হাঁটুতেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় আলী জানের পরনের পাঞ্জাবির পকেট থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তার জামাতা।
পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আলী জানকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বলে পরিবার জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, যাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে তারা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত। তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।